আসসালামু আলাইকুম। উমরাহ আসলে চারটি সহজ ধাপ — একবার বুঝে নিলে গোটা আমল চোখের সামনে ভেসে ওঠে। প্রথমবার যাচ্ছেন যিনি, তাঁর জন্য ধাপে ধাপে সাজিয়ে দিলাম, সাথে প্রয়োজনীয় দোয়া। মূল ধর্মীয় নিয়মগুলো মধ্যপন্থী মতানুসারে লেখা, আমাদের আলেম যাচাই করেছেন।
উমরাহ কীভাবে করবেন?
উমরাহ চার ধাপে সম্পন্ন হয় — মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে নিয়ত ও তালবিয়া, এরপর কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ, তারপর সাফা-মারওয়ায় সাতবার সাঈ, আর শেষে হলক (মাথা মুণ্ডন) বা কসর (চুল ছোট করা)। এই চারটি ধাপ ঠিকঠাক করলেই উমরাহ পূর্ণ হয়, ইনশাআল্লাহ। নিচে প্রতিটি খুলে বললাম।
- ইহরাম — মিকাত থেকে নিয়ত ও তালবিয়া
- তাওয়াফ — কাবা শরীফকে বামে রেখে সাত চক্কর
- সাঈ — সাফা থেকে মারওয়া সাতবার
- হলক বা কসর — চুল মুণ্ডন বা ছোট করা
ইহরাম কোথা থেকে বাঁধবেন?
ইহরাম বাঁধতে হয় মিকাত অতিক্রমের আগে। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা যান, তাঁদের জন্য সাধারণত বিমানেই মিকাত ঘোষণা করা হয়। গোসল করে পুরুষরা সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরুন (নারীরা স্বাভাবিক শালীন পোশাকে), দুই রাকাত নামাজ পড়ে উমরাহর নিয়ত করুন। এরপর থেকে তালবিয়া পড়তে থাকুন।
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক, লা শারিকা লাক
আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই।
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি, সেলাই করা পোশাক (পুরুষ), চুল-নখ কাটা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ভুলবশত কিছু হয়ে গেলে ঘাবড়াবেন না — সাথে সাথে মোয়াল্লেমকে জানান, তিনি করণীয় বলে দেবেন।
তাওয়াফ কীভাবে করবেন?
হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাঁড়িয়ে তাওয়াফ শুরু — কাবা শরীফ থাকবে বাম পাশে, সাত চক্কর। প্রতিটি চক্করে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়, মন খুলে দোয়া করুন। রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত নিচের দোয়াটি পড়া সুন্নত। তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আজাবান-নার
হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।
সাঈ — সাফা থেকে মারওয়া কীভাবে?
তাওয়াফের পর সাফা পাহাড় থেকে সাঈ শুরু। সাফা থেকে মারওয়া এক যাত্রা — এভাবে সাতবার, শেষ হবে মারওয়ায়। মাঝের সবুজ বাতির অংশে পুরুষদের একটু দ্রুত হাঁটা সুন্নত, নারীরা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন। এই সাঈ মা হাজেরা (আঃ)-এর ছোটাছুটির স্মৃতি — কুরআনেই সাফা-মারওয়ার কথা এসেছে।
হলক বা কসর — শেষ ধাপে কী করবেন?
সাঈ শেষে শেষ ধাপ — চুল কাটা। পুরুষরা মাথা মুণ্ডন (হলক) করবেন, অথবা পুরো মাথার চুল সমান করে ছোট করবেন (কসর); হলক করাই উত্তম। নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কর পরিমাণ কাটবেন — এটিই তাঁদের কসর, মুণ্ডন নয়। এরপরই আপনি ইহরাম থেকে হালাল, উমরাহ সম্পন্ন, ইনশাআল্লাহ।
উমরাহয় কত সময় লাগে ও খরচ কেমন?
উমরাহর মূল আমল কয়েক ঘণ্টায় শেষ হয়, তবে পুরো সফর সাধারণত ১২–১৩ দিনের হয় — মক্কা-মদিনায় ইবাদত, জিয়ারা আর বিশ্রাম মিলিয়ে। আমাদের মাসিক উমরাহ প্যাকেজ শুরু ৳১,৬০,০০০ থেকে, জনপ্রতি। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে ছোট কাফেলায় যাত্রা, সাথে সরাসরি ফ্লাইট ও জিয়ারা ট্যুর।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মূল্য | ৳১,৬০,০০০ থেকে শুরু · জনপ্রতি |
| মেয়াদ | ১২–১৩ দিন |
| হারাম থেকে দূরত্ব | ৭০০–১০০০ মিটার |
| যাত্রা | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে |
